বাংলাদেশে সমকামীদের হত্যা শুধু সামাজিক ঘৃণার ফল নয়। এর পেছনে রাষ্ট্রের তৈরি করা আইনি কাঠামো কাজ করে। দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা শুধু একটি আইন নয়, এটি একটি সামাজিক সংকেত—এই মানুষগুলো অপরাধী।
যে রাষ্ট্র কোনো জনগোষ্ঠীকে অপরাধী বানায়, সে রাষ্ট্র কীভাবে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে? সমাজের চোখে তারা তখন নাগরিক না, বরং সন্দেহভাজন। আর সন্দেহভাজন মানুষ মারলে অপরাধবোধ কম হয়।
হত্যার পর রাষ্ট্রের ভাষাও এই বৈষম্যকে জোরদার করে।
“তদন্ত চলছে।”
“বিষয়টি সংবেদনশীল।”
“তাদের জীবনযাপন ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।”
এই ভাষার মানে একটাই—দায় খুনির না, ভুক্তভোগীর।
রাষ্ট্র সরাসরি বলে না, “খুন করো।”
কিন্তু বলে, “আমরা তোমাকে থামাব না।”
এটাই খুনের লাইসেন্স।
রাষ্ট্র চাইলে সহজেই অবস্থান নিতে পারত।
৩৭৭ ধারা বাতিল করতে পারত।
পুলিশকে নির্দেশ দিতে পারত, ভিকটিমকে অপরাধী বানানো যাবে না।
প্রতিটি হত্যার বিচার দ্রুত করতে পারত।
কিন্তু এসব অগ্রাধিকার পায় না। কারণ এই মানুষগুলো রাজনৈতিকভাবে দুর্বল। তাদের পক্ষে দাঁড়ালে ধর্মীয় প্রতিক্রিয়ার ভয় আছে। আর রাষ্ট্র ভয় পায়। ফলে রাষ্ট্র বেছে নেয় নিরাপদ পথ—নীরবতা।
এই নীরবতা কোনো নিরপেক্ষতা না। এটা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত।