আনন্দের বিরুদ্ধে যুদ্ধ

Share

 

মৌলবাদীদের সবচেয়ে বড় শত্রু নাচ না, গান না—আনন্দ। কারণ আনন্দ মানুষকে ভয়মুক্ত করে। ভয়মুক্ত মানুষকে শাসানো কঠিন। তাই যেখানে গান ওঠে, সেখানে তারা “অশ্লীলতা” খুঁজে পায়। যেখানে নাচ হয়, সেখানে তারা “পাপ” আবিষ্কার করে। এই আবিষ্কার ধর্মের না, ক্ষমতার।

নাচ মানে শরীরের স্বাধীনতা। গান মানে কণ্ঠের স্বাধীনতা। আর স্বাধীন শরীর, স্বাধীন কণ্ঠ—এই দুইটাই মৌলবাদী রাজনীতির জন্য বিপজ্জনক। তারা চায় মানুষ নিচু চোখে চলুক, প্রশ্ন না করুক, নিজের অনুভূতি প্রকাশ না করুক। নাচ–গান করা মানুষ এই নিয়ম ভাঙে। সে প্রকাশ্যে দাঁড়ায়, হাসে, কণ্ঠ তোলে। তাই তাকে “বাইরের লোক” বানাতে হয়।

এই দেশে নাচ–গান নতুন কিছু না। লালন ছিল, ভাটিয়ালি ছিল, জারি–সারি ছিল। গ্রামবাংলার মেলায় গান বাজত, হাটে পালাগান হতো। কিন্তু মৌলবাদী চোখে হঠাৎ এগুলো “পশ্চিমা ষড়যন্ত্র” হয়ে গেল। কারণ তারা সংস্কৃতির ইতিহাস দেখে না, তারা ক্ষমতার মানচিত্র দেখে। যেখানে মানুষ একসঙ্গে গায়, সেখানে ভয় কমে। আর ভয় কমলে তাদের ব্যবসা বন্ধ হয়।

নাচ–গানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ আসলে মানুষের জীবনযাপনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ। বলা হচ্ছে—তুমি কীভাবে হাসবে, কী শুনবে, কীভাবে চলবে, সব আমি ঠিক করব। এটাই মৌলবাদ। ধর্ম এখানে ঢাল, আসল লক্ষ্য নিয়ন্ত্রণ।