৪ জুন ২০২৩।
হেফাযত ও জামাতের যৌথ সমাবেশে উন্মুক্ত মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হলো—
“ব্লগার শরীফকে গ্রেফতার করতে হবে, ফাঁসি দিতে হবে।”
এটা কোনো মতামত না।
এটা কোনো ধর্মীয় বক্তব্য না।
এটা সরাসরি হত্যার উস্কানি।
কোন আদালত রায় দিয়েছে?
কোন বিচারক বলেছে—ফাঁসি?
কোন আইনে লেখা আছে—ব্লগ লেখার শাস্তি মৃত্যু?
এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর নেই।
আছে শুধু মাইক, মঞ্চ আর জনতার সামনে ছুড়ে দেওয়া রক্তচাপানো স্লোগান।
এরা বলছে “আইন চাই”
কিন্তু আইন মানে না।
এরা বলছে “ধর্ম রক্ষা”
কিন্তু ধর্মের নামে খুনকে বৈধ করতে চায়।
আজ তারা বলছে—
“শরীফকে ফাঁসি দিতে হবে।”
কাল বলবে—
“অমুককে ফাঁসি দিতে হবে।”
তারপর বলবে—
“তোমাকেও।”
এই স্লোগান শুধু আমার বিরুদ্ধে না।
এটা মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে।
এটা ভিন্নমতের বিরুদ্ধে।
এটা নাগরিক অধিকারের বিরুদ্ধে।
যারা খোলা মঞ্চে মৃত্যুদণ্ডের দাবি তোলে,
তারা রাষ্ট্রকে বলছে—
“তুমি অপ্রয়োজনীয়।
আমরাই বিচারক, আমরাই জল্লাদ।”
এটা ধর্ম নয়।
এটা ক্ষমতার লোভ।
এটা ভয় তৈরি করে শাসনের রাজনীতি।
আমি প্রশ্ন করি—
মানুষের পক্ষে লেখা কি ফাঁসিযোগ্য অপরাধ?
সমকামী শিক্ষার্থীদের রক্ষা করা কি রাষ্ট্রদ্রোহ?
অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা কি মৃত্যুদণ্ডের যোগ্য?
যদি তাই হয়,
তাহলে এই দেশ আর নাগরিকদের দেশ না—
এটা মবের দেশ।
এই সমাবেশের ভাষা প্রমাণ করে—
এরা বিচার চায় না,
এরা নীরবতা চায়।
এরা ধর্ম চায় না,
এরা শত্রু চায়।
কারণ শত্রু বানাতে পারলে
ভয় বিক্রি করা যায়।
ভয় বিক্রি হলে
নেতৃত্ব টেকে।
আমি এই হত্যার ডাক প্রত্যাখ্যান করি।
আমি এই উসকানির নিন্দা করি।
আমি বলি—
মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফাঁসি দাবি করা
ধর্মের কাজ না।
এটা অপরাধ।
মতভিন্নতার জবাব
হাতুড়ি না,
যুক্তি হওয়া উচিত।
আর যুক্তির বদলে দড়ি চাইলে
তা ধর্ম না—
তা ফ্যাসিবাদ।
আজ তারা আমার নাম নিয়েছে।
কাল নেবে আরেকজনের।
এই আগুন থামাতে না পারলে
শেষে সবাই পুড়বে।
আমি ভয় পাই না—
কারণ ভয়ই ওদের অস্ত্র।
আমি লিখি—
কারণ লেখা থামলে
ওদের স্লোগানই আইন হয়ে যাবে।
আমি এই মঞ্চ-ঘোষণার বিরুদ্ধে দাঁড়াই।
আমি এই হত্যার দাবির বিরুদ্ধে দাঁড়াই।
আমি বলি—
গ্রেফতার নয়,
ফাঁসি নয়,
চাই বিচার,
চাই আইন,
চাই মানবতা।
যে দেশে খোলা মঞ্চে
মৃত্যুদণ্ডের দাবি ওঠে,
সেই দেশে চুপ থাকা
অপরাধে শরিক হওয়া।
আমি শরীফ।
আমি লিখি।
আর লেখা থামাতে
দড়ি লাগবে না—
আইন আর বিবেক লাগবে।