মৌলবাদী চিন্তার সবচেয়ে বড় দাবি হলো—নৈতিকতার একমাত্র মালিক তারাই। তাদের পোশাক নৈতিক, তাদের কথা নৈতিক, তাদের ব্যাখ্যাই সত্য। এর বাইরে যা কিছু আছে, সবই “বিপথগামী”। নাচ–গান এই একচ্ছত্র মালিকানাকে চ্যালেঞ্জ করে। কারণ নাচ–গান দেখায়—নৈতিকতা একরঙা না, জীবন একরেখা না।
যখন তারা বলে, “গান চরিত্র নষ্ট করে”, তখন তারা গান নিয়ে কথা বলে না। তারা ক্ষমতা নিয়ে কথা বলে। তারা বলে—তোমার চরিত্রের সার্টিফিকেট আমি দেব। তুমি ভালো না খারাপ, আমি ঠিক করব। এই দাবির ভেতরেই লুকিয়ে আছে ভয়ংকর রাজনীতি।
শিল্প মানুষকে ভাবতে শেখায়। গান মানুষকে প্রশ্ন করতে শেখায়। নাটক মানুষকে নিজের সমাজটা দেখতে শেখায়। মৌলবাদ প্রশ্ন সহ্য করতে পারে না। কারণ প্রশ্ন মানেই কর্তৃত্বে ফাটল। তাই শিল্প তাদের কাছে সন্দেহজনক। তাই শিল্পী তাদের কাছে লক্ষ্যবস্তু।
এখানে ধর্মের প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন আছে—কে ঠিক করবে মানুষ কীভাবে বাঁচবে। যে শক্তি নিজের ব্যাখ্যাকে একমাত্র নৈতিকতা বানাতে চায়, সে শক্তি সমাজকে দমাতে চায়। নাচ–গানের বিরুদ্ধে তাদের আক্রমণ আসলে এই দমননীতিরই অংশ।