পাথর নয়, তারা ভয় পায় মানুষের মাথা

Share

মৌলবাদীরা ভাস্কর্য ভাঙতে চায় কেন—এই প্রশ্নের উত্তর ধর্মে না, ক্ষমতায়। তারা পাথরের মূর্তিকে নয়, মানুষের চিন্তাকে আঘাত করতে চায়।

একটা ভাস্কর্য মানে কী?
মানে ইতিহাস চোখের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা।
মানে লড়াই, প্রতিবাদ, আত্মমর্যাদা দৃশ্যমান হওয়া।
আর এই দৃশ্যমানতাই মৌলবাদীদের শত্রু।

কারণ মৌলবাদ টিকে থাকে অন্ধ আনুগত্যে।
তাদের সমাজে মানুষ ভাববে না, প্রশ্ন করবে না—শুধু মানবে।
ভাস্কর্য দাঁড়িয়ে থাকলে মানুষ জিজ্ঞেস করে—
কে ছিল সে?
কেন তাকে স্মরণ করা হচ্ছে?
কীসের জন্য সে লড়েছিল?

এই প্রশ্নগুলোই মৌলবাদীদের মাথাব্যথা।
প্রশ্ন মানে আদেশ ভাঙা।
প্রশ্ন মানে ভয় কমে যাওয়া।

তাই তারা ধর্মের নাম ব্যবহার করে।
বলে, “মূর্তি হারাম।”
কিন্তু বাস্তবে তারা বলে, “এই স্মৃতি থাকা চলবে না।”
কারণ স্মৃতি থাকলে মানুষ বুঝে যায়—
আগেও লড়াই হয়েছে,
আগেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো গেছে।

ভাস্কর্য ভাঙা তাই শুধু শিল্প ধ্বংস না,
এটা ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা।

আরেকটা নোংরা রাজনীতি এখানে কাজ করে।
যখন কাজ নেই,
ন্যায় নেই,
দুর্নীতি বাড়ে—
তখন বলা হয়, “দোষ ভাস্কর্যের।”

যেন হাসপাতাল নেই ভাস্কর্যের জন্য।
যেন চাকরি নেই পাথরের জন্য।
এভাবে মানুষের রাগ যায় ভুল জায়গায়।

ভাস্কর্য ভাঙা মানে বার্তা দেওয়া—
“আমরাই ঠিক করব কী থাকবে, কী থাকবে না।”
এটা শক্তির প্রদর্শনী।
এটা রাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ।
এটা সমাজকে ভয় দেখানো।

ইতিহাস পরিষ্কার—
যেখানে মৌলবাদ জিতেছে,
সেখানে আগে বই পোড়েছে,
তারপর ছবি,
তারপর ভাস্কর্য,
তারপর মানুষ।

কারণ শিল্প টিকে থাকলে চিন্তা টিকে থাকে।
আর চিন্তা টিকে থাকলে
মৌলবাদ টেকে না।

তাই তারা পাথরে আঘাত করে।
আসলে আঘাতটা মানুষের মাথায়।

ভাস্কর্য ভাঙা মানে পাথর ভাঙা না।
ভাস্কর্য ভাঙা মানে বলা—
“ভাবা নিষেধ।”

এই নিষেধই মৌলবাদের আসল লক্ষ্য।