ফতোয়ার নামে সন্ত্রাস: কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে মধ্যযুগীয় বর্বরতার ঘোষণা

Share

২০২৩ সালের ১২ এপ্রিল কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে যা ঘটেছে, সেটাকে “ধর্মীয় সিদ্ধান্ত” বলা অপরাধের সমান। জামাতে ইসলামী ও হেফাজতে ইসলামীর কিছু মৌলবাদী নেতা ঘোষণা দিলেন—যারা সমকামী, তারা যেন এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
এটা কোনো ফতোয়া না। এটা সরাসরি সামাজিক উচ্ছেদের হুমকি। এটা ধর্ম নয়, এটা গুন্ডামি।
কোন আইনে তারা কাউকে বাড়িঘর ছাড়তে বলে?
কোন কোরআনের আয়াতে লেখা আছে, “তুমি আমার এলাকায় থাকতে পারবে না”?
কোন হাদিসে বলা হয়েছে, “তুমি আলাদা, তাই তুমি নাগরিক না”?
এই লোকগুলো আল্লাহর প্রতিনিধি সেজে মানুষের জীবনের ওপর মালিকানা দাবি করছে। এরা ধর্ম ব্যবহার করে ভয় তৈরি করছে, আর ভয় দিয়ে সমাজ শাসন করতে চায়। এটাকে যদি ফতোয়া বলি, তাহলে ডাকাতির নামও “নৈতিকতা” দিতে হয়।
সমকামী হওয়া কোনো অপরাধ না।
অপরাধ হলো মানুষকে তাড়িয়ে দেওয়া।
অপরাধ হলো জনতার সামনে কাউকে টার্গেট বানানো।
অপরাধ হলো ধর্মকে লাঠি বানিয়ে দুর্বলদের পেটানো।
এই মৌলবাদীরা ভালো করেই জানে—সমকামী মানুষরা সংখ্যায় কম, রাজনৈতিকভাবে দুর্বল, সামাজিকভাবে কোণঠাসা। তাই ওদের ওপর আঘাত করা সহজ। আজ তারা সমকামীদের তাড়াচ্ছে, কাল তাড়াবে ভিন্নমতাবলম্বীকে, পরশু তাড়াবে লেখককে, এরপর সাংবাদিককে। ফতোয়ার তালিকা বাড়তেই থাকবে।
এটা শুধু LGBTQ মানুষের প্রশ্ন না।
এটা বাংলাদেশের নাগরিকত্বের প্রশ্ন।
এটা সংবিধানের প্রশ্ন।
এটা মানবতার প্রশ্ন।
যদি আজ কোনো ধর্মীয় গোষ্ঠী ঠিক করে দেয়, “তুমি এই এলাকায় থাকতে পারবে না”, তাহলে রাষ্ট্রের দরকার কী? পুলিশ, আদালত, আইন সবই তাহলে ভেঙে ফেলতে হবে। কারণ তখন শাসন করবে মসজিদের মাইক আর মাদ্রাসার মঞ্চ।
এই ফতোয়া আসলে বলে দেয়—
“আমরা আইন মানি না।”
“আমরা মানুষকে মানুষ ভাবি না।”
“আমরা ভয় দেখিয়ে সমাজ চালাতে চাই।”
এই চিন্তাধারা ধর্মীয় না, এই চিন্তাধারা ফ্যাসিস্ট।
ধর্ম যদি সত্যিই ন্যায় আর দয়ার শিক্ষা দিত, তাহলে প্রথম কথা হতো—
মানুষকে নিরাপদ থাকতে দাও।
তাদের বাড়িঘর কেড়ে নিও না।
তাদের প্রকাশ্যে শত্রু বানিও না।
কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে উল্টোটা।
এরা নৈতিকতার মুখোশ পরে ঘৃণার রাজনীতি করছে।
আমি এই ফতোয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়াই।
আমি এই মৌলবাদী হুমকির বিরুদ্ধে দাঁড়াই।
আমি বলি—
বাংলাদেশ কোনো তালেবানি এলাকা না।
এটা কোনো ধর্মীয় আদালত না।
এটা নাগরিক রাষ্ট্র।
কারো যৌন পরিচয়ের জন্য তাকে এলাকা ছাড়তে বলা মানে হলো—এই সমাজ নিজেই অসুস্থ।
আর সেই অসুখের নাম মৌলবাদ।
এই ফতোয়া প্রত্যাহার না হলে আমাদের আরও জোরে বলতে হবে—
তোমাদের ধর্মের ব্যাখ্যা আমরা মানি না।
তোমাদের ভয় আমরা গ্রহণ করি না।
তোমাদের হুমকি আমাদের থামাতে পারবে না।
কারণ আজ যদি আমরা চুপ থাকি, কাল কেউই নিরাপদ থাকবে না।