বাড়িতে হামলা, বাবা-মাকে পেটানো, আর শেষে মামলা: ধর্মের নামে খুনের বৈধতা তৈরির চেষ্টা

Share

সমাবেশে আমাকে “ফাঁসি দিতে হবে” বলার দুই দিন পর,
৭ জুন ২০২৩,
হেফাযত–জামাতের লোকজন আমার বাড়িতে হামলা চালায়।
আমি সেদিন বাড়িতে ছিলাম না।
তারা আমাকে পায়নি।
তাই তারা আমার বাবা-মাকে মারধর করেছে।
তাদের গুরুতর আহত করেছে।
বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে।
এটা প্রতিশোধ না।
এটা বার্তা।
তারা চিৎকার করে বলেছে—
আমি নাস্তিক।
আমি সমকামীদের অধিকার নিয়ে কথা বলি।
সুতরাং আমাকে হত্যা করা ফরজ।
এই কথাটা শুধু ধর্মীয় বক্তব্য না।
এটা সরাসরি খুনের লাইসেন্স।
আমি সেদিন বাড়িতে না থাকায় বেঁচে যাই।
কিন্তু আমার পরিবার বাঁচেনি নিরাপত্তা থেকে।
আমরা আত্মগোপনে যেতে বাধ্য হই।
এক আত্মীয়ের বাসায় লুকিয়ে থাকতে শুরু করি।
এই হামলার পর
আমি শুধু বাড়ি হারাইনি,
আমি পরিবার থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি।
আমার বাবা-মা এখনো স্থায়ী ঝুঁকির মধ্যে।
এটাই মৌলবাদের প্রকৃত চেহারা—
যাকে পাওয়া যায় না,
তার মা-বাবাকে পেটাও।
যাকে ধরা যায় না,
তার ঘর ভেঙে দাও।
তারপরও তারা থামেনি।
৯ জুন ২০২৩।
হেফাযত ইসলামের নেতা আকরাম হোসেন বাদী হয়ে
আমার বিরুদ্ধে মামলা করে—
“ইসলাম ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত”।
অর্থাৎ,
প্রথমে তারা আমাকে হত্যা করতে চেয়েছে,
তারপর আমার পরিবারকে মারধর করেছে,
এখন তারা আমাকে আইনের নামে ফাঁসিতে পাঠানোর চেষ্টা করছে।
এই মামলা বিচার চায় না।
এই মামলা নীরবতা চায়।
এই মামলা আসলে বলছে—
“তুমি যদি মানুষের পক্ষে কথা বলো,
তাহলে তোমাকে অপরাধী বানানো হবে।”
বাংলাদেশে এই ধরনের মামলা মানে কী,
আমরা সবাই জানি।
এটা প্রায় নিশ্চিত
হত্যা অথবা লিঞ্চিংয়ের রাস্তা।
এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ
একটা পরিষ্কার চিত্র দেখায়—
প্রথমে তারা বলে, “তুমি খারাপ।”
তারপর বলে, “তুমি থাকতে পারবে না।”
তারপর বলে, “তোমাকে মারা জায়েজ।”
তারপর বলে, “আইন দিয়েই মারব।”
এটা ধর্ম না।
এটা রাজনৈতিক সন্ত্রাস।
যারা আমার বাবা-মাকে পিটিয়েছে,
তারা ধর্মের সৈনিক না।
তারা অপরাধী।
যারা আমার নামে মামলা করেছে,
তারা ন্যায়বিচার চায় না।
তারা ভয় চায়।
আমি প্রশ্ন করি—
কোন ধর্ম বাবা-মাকে মারতে শেখায়?
কোন ধর্ম বাড়ি ভাঙতে শেখায়?
কোন ধর্ম বলে—
“তুমি কথা বলেছ, তাই তুমি মরতে পারো”?
যদি এটাই ধর্ম হয়,
তাহলে এই ধর্ম মানুষের বিরুদ্ধে।
আমার বাড়িতে হামলা
শুধু আমার ওপর হামলা না।
এটা পরিবারের ওপর হামলা।
এটা নাগরিক অধিকারের ওপর হামলা।
এটা মতপ্রকাশের ওপর হামলা।
আমার বিরুদ্ধে মামলা
শুধু মামলা না।
এটা রাষ্ট্রকে চাপ দেওয়ার কৌশল।
“ওকে ধরো, না হলে আমরাই বিচার করব।”
এই ভাষাই প্রমাণ করে—
এরা রাষ্ট্র মানে না।
এরা আদালত মানে না।
এরা নিজেরাই বিচারক হতে চায়।
আমি বলি—
আমাকে ভয় দেখিয়ে চুপ করানো যাবে না।
আমার বাবা-মাকে মারধর করে
ন্যায়কে হত্যা করা যাবে না।
আমি লিখি কারণ
আমি জানি—
আজ আমি,
কাল আর কেউ।
যে সমাজে
ঘরে ঢুকে মানুষ পেটানো হয়,
মঞ্চে দাঁড়িয়ে ফাঁসি দাবি করা হয়,
তারপর মামলা দিয়ে শেষ করা হয়—
সে সমাজ ধর্মীয় না,
সে সমাজ ভয়ংকর।
আমি এই হামলার নিন্দা করি।
আমি এই মিথ্যা মামলার প্রতিবাদ করি।
আমি এই ধর্মের নামে চালানো
সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়াই।
কারণ
মানুষের পক্ষে কথা বলা
অপরাধ হতে পারে না।
আর হত্যার ডাক
ধর্ম হতে পারে না।