মৌলবাদীরা ভাস্কর্য ভাঙতে চায় ধর্মের কারণে—এই গল্পটা একটা অজুহাত। আসল সত্য হলো, তারা ভাস্কর্য ভাঙে আতঙ্ক ছড়াতে।
ভাস্কর্য ভাঙা কোনো হঠাৎ রাগ না।
এটা পরিকল্পিত কাজ।
এটা বলে—
“আমরা যা চাই, তা না হলে ভাঙচুর হবে।”
এই ভাষাটার নাম রাজনীতি, ধর্ম না।
একটা ভাস্কর্য শহরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকে।
সবাই দেখে।
শিশু দেখে, তরুণ দেখে, বৃদ্ধ দেখে।
এটা প্রকাশ্য প্রতীক।
তাই ওটাকে ভাঙা মানে
প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া।
বই পোড়ালে লেখক ভয় পায়।
ভাস্কর্য ভাঙলে পুরো শহর ভয় পায়।
এই ভয়টাই মৌলবাদীদের পুঁজি।
তারা চায় সমাজ বুঝে যাক—
“চুপ থাকাই নিরাপদ।”
“প্রতিবাদ মানেই ঝামেলা।”
“শিল্প মানেই বিপদ।”
এইভাবেই তারা ধীরে ধীরে
সংস্কৃতিকে শ্বাসরোধ করে।
আরেকটা সুবিধা আছে—
ভাস্কর্য সহজ শত্রু।
পাথর প্রতিবাদ করে না।
মূর্তি মামলা করে না।
তাই আঘাত করা নিরাপদ।
আজ ভাস্কর্য,
কাল গান,
পরশু নাটক,
তারপর বই,
শেষে মানুষ।
এই ধাপটাই মৌলবাদী কৌশল।
তারা বলে, “এটা ধর্মবিরোধী।”
কিন্তু তাদের সমস্যা ধর্ম না,
সমস্যা নিয়ন্ত্রণ।
যদি মানুষ গান গায়,
ইতিহাস মনে রাখে,
শিল্প দেখে,
তাহলে সে শুধু আদেশ মানা যন্ত্র থাকে না।
আর মৌলবাদ চায় মানুষ হোক যন্ত্র।
ভাস্কর্য ভাঙা মানে শুধু মূর্তি ভাঙা না।
ভাস্কর্য ভাঙা মানে বলা—
“এই শহরে আমাদের ভয় চলবে।”
যে সমাজ ভাস্কর্য রক্ষা করতে পারে না,
সে সমাজ একদিন মানুষও রক্ষা করতে পারবে না।
কারণ আজ আঘাত পাথরে,
কাল আঘাত মানুষে।
ভাস্কর্য ভাঙার লড়াইটা তাই
ধর্ম বনাম শিল্প না।
এটা ভয় বনাম স্বাধীনতার লড়াই।
আর এই লড়াইয়ে
যে পাথর ভাঙে,
সে আসলে মানুষকেই ভাঙতে চায়।