ভোটের হিসাব আর লাশের সংখ্যা

Share

 

রাষ্ট্রের নৈতিকতা প্রায়ই ভোটের অঙ্কে মাপা হয়। সমকামীদের ক্ষেত্রে সেটাই হচ্ছে। তারা সংখ্যায় কম। সংগঠিত না। রাজনৈতিক শক্তি না। ফলে তাদের জীবন রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার তালিকায় পড়ে না।

হত্যাকাণ্ডের পর রাষ্ট্র যে ভাষা ব্যবহার করে, তা আসলে ভোটের ভাষা। “সংবেদনশীল বিষয়”, “সামাজিক বাস্তবতা”—এই শব্দগুলো মানে একটাই: আমরা শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাব না, কারণ এতে ঝামেলা হতে পারে।

রাষ্ট্র জানে, সমকামীদের পক্ষে দাঁড়ালে কিছু গোষ্ঠী ক্ষুব্ধ হবে। ভোটের ক্ষতি হবে। তাই রাষ্ট্র দাঁড়ায় না। বরং চুপ থাকে। এই চুপ থাকাই খুনিকে সাহস দেয়।

সমস্যা ভালোবাসার ধরন না। সমস্যা হলো—রাষ্ট্র ঠিক করে দিয়েছে, কার জীবন রক্ষা করার মতো গুরুত্বপূর্ণ আর কার জীবন ত্যাগযোগ্য।

আজ যদি সমকামী খুন হয় আর রাষ্ট্র নড়ে না,
আগামীকাল সংখ্যালঘু খুন হবে,
তারপর ভিন্নমতাবলম্বী।

কারণ একবার যদি রাষ্ট্র কিছু নাগরিককে “কম মূল্যবান” ঘোষণা করে, তখন সেই তালিকা বড় হতে থাকে।

রাষ্ট্রের কাজ সংখ্যাগরিষ্ঠকে খুশি করা না। রাষ্ট্রের কাজ দুর্বলকে রক্ষা করা। কিন্তু বাস্তবে রাষ্ট্র উল্টোটা করছে। শক্তের পাশে দাঁড়াচ্ছে, দুর্বলের মৃত্যু মেনে নিচ্ছে।

এটা অজ্ঞতা না। এটা সিদ্ধান্ত।