মানুষ থেকে টার্গেট বানানোর কৌশল

Share

 

মৌলবাদীরা সমকামীদের মানুষ মনে করে না—এটা কাকতালীয় না, এটা কৌশল। কারণ কাউকে মারতে হলে আগে তাকে মানুষ থেকে নামাতে হয়। মানুষ হলে মায়া লাগে, প্রশ্ন ওঠে, বিবেক নড়ে। তাই আগে বলা হয়—“এরা পাপ”, “এরা ব্যাধি”, “এরা ষড়যন্ত্র”। মানুষ শব্দটা সরিয়ে দিয়ে বসানো হয় ভয়ংকর লেবেল।

সমকামী মানুষ মৌলবাদী দুনিয়ার ছকে ঢোকে না। তাদের দুনিয়ায় পুরুষ মানে একরকম, নারী মানে একরকম, পরিবার মানে একরকম। সমকামী মানুষ এই ছক ভেঙে দেয়। তাই তাকে “অস্বাভাবিক” বানাতে হয়। আর অস্বাভাবিক মানেই দমনযোগ্য।

তারা কি মানুষ নয়?
তারা কি জন্মায় না, খায় না, ভয় পায় না, ভালোবাসে না?
যদি এসবই করে, তবে মানুষ হওয়ার শর্ত কী? কার সঙ্গে ঘুমালেই কি মানুষত্ব বাতিল হয়?

আর তাদেরকে কেন হত্যা করতে হবে?
কোন যুক্তিতে?
খুন কি কোনো বিশ্বাস বাঁচায়?
খুন কি কোনো সমাজ শুদ্ধ করে?

খুন শুধু একটাই কাজ করে—ঘৃণাকে নিয়ম বানায়।
আর যে সমাজ ঘৃণাকে নিয়ম বানায়, সে সমাজ শেষ পর্যন্ত সবাইকে টার্গেট বানায়।

মৌলবাদীদের আসল সমস্যা সমকামিতা না। তাদের সমস্যা হলো—ভালোবাসা যদি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়। কে কাকে ভালোবাসবে, কীভাবে ভালোবাসবে—এই সিদ্ধান্ত যদি মানুষ নিজে নেয়, তাহলে তাদের ক্ষমতা ভাঙে।

তাই সমকামী সম্পর্ককে তারা “রোগ” বানায়, “অপরাধ” বানায়। সম্পর্ক থেকে মানুষকে সরিয়ে নেয়। তখন আর দুইটা মানুষ থাকে না—থাকে “পাপের কাজ”।

তারা কি মানুষ নয়?
যদি তারা মানুষ না হয়, তাহলে তাদের কান্না, ভয়, আশা—এসব কী?

আর হত্যা কেন?
কার ভালোবাসা পছন্দ না হলেই কি তাকে মারতে হবে?
এটা ধর্ম না, এটা দখলদারি।
এটা বলা—“তোমার জীবন আমি চালাব।”

যে সমাজ বলে, ভালোবাসা অপরাধ,
সে সমাজ একদিন বলবে—চিন্তাও অপরাধ।