মৌলবাদীদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র লাঠি না, বন্দুক না—ভয়।
তারা আগে ভয় তৈরি করে, তারপর সেই ভয় দিয়ে মানুষ চালায়। প্রশ্ন হলো, তারা এত ভয় দেখায় কেন?
কারণ মৌলবাদ টিকে থাকে যুক্তির ওপর নয়, আতঙ্কের ওপর।
মৌলবাদী চিন্তা মানুষের মাথায় ঢোকে আদেশ দিয়ে—
“এটা করো”,
“ওটা করো না”,
“না করলে শাস্তি”।
এই শাস্তির কল্পনাই তাদের শক্তি। মানুষ যদি ভয় না পায়, তাহলে তারা হুকুম দেবে কাকে?
প্রথম কারণ, তারা প্রশ্নকে ভয় পায়।
যে সমাজ প্রশ্ন করে, সেখানে মৌলবাদ টেকে না।
তাই তারা প্রশ্ন করার আগেই ভয় ঢুকিয়ে দেয়—
“এটা নিয়ে কথা বললে বিপদ”,
“এভাবে ভাবলে পাপ”,
“এটা করলে সমাজ ধ্বংস হবে।”
ভয় মানুষকে চুপ করায়।
চুপ করানো মানে জয়।
দ্বিতীয় কারণ, তারা নিয়ন্ত্রণ চায়।
মৌলবাদ চায়—
নারী কী পরবে,
শিক্ষার্থী কী করবে,
কে কাকে ভালোবাসবে,
কী গান শোনা যাবে—
সব তারা ঠিক করবে।
এই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ভয় দরকার।
ভয় না থাকলে মানুষ বলবে, “তুমি কে আমাকে বলার?”
তৃতীয় কারণ, তারা ব্যর্থতা ঢাকতে ভয় ব্যবহার করে।
যখন সমাজে বেকারত্ব বাড়ে,
যখন দুর্নীতি বাড়ে,
যখন শিক্ষা ভেঙে পড়ে—
তখন মৌলবাদীরা বলে,
“এই সব হচ্ছে নাচ-গানের জন্য”,
“এই সব হচ্ছে মেয়েদের স্বাধীনতার জন্য”,
“এই সব হচ্ছে ভিন্ন মতের জন্য।”
আসল সমস্যার কথা না বলে
একটা কল্পিত শত্রু বানানো হয়।
আর সেই শত্রুকে ভয়ংকর বানানো হয়।
চতুর্থ কারণ, তারা সহজ শিকার খোঁজে।
নারী, সমকামী, সংখ্যালঘু, ভিন্নমতাবলম্বী—
এরা সংখ্যায় কম,
শক্তিতে দুর্বল,
আর সামাজিকভাবে ঝুঁকিতে।
তাই তাদের ওপর ভয় দেখানো সহজ।
হুমকি দিলে প্রতিবাদ কম হয়।
এটাই তাদের হিসাব।
পঞ্চম কারণ, ভয় মানে আনুগত্য।
যে ভয় পায়, সে প্রশ্ন করে না।
যে ভয় পায়, সে নিয়ম মানে।
যে ভয় পায়, সে অন্যায় দেখেও চুপ থাকে।
এই নীরবতাই মৌলবাদীদের আসল বিজয়।
তারা ধর্মের কথা বলে,
কিন্তু আসলে তারা ক্ষমতার কথা বলে।
তারা নৈতিকতার কথা বলে,
কিন্তু আসলে তারা কর্তৃত্ব চায়।
ভয় দেখানো তাদের কাছে
শিক্ষার বিকল্প,
যুক্তির বিকল্প,
রাজনীতির বিকল্প।
কারণ যুক্তি দিলে বিতর্ক হবে।
ভয় দেখালে বিতর্কের দরকার নেই।
সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো—
একসময় মানুষ এই ভয়কে স্বাভাবিক ভাবতে শুরু করে।
কেউ হুমকি দিলে বলা হয়, “এটাই তো নিয়ম।”
কেউ নিষেধ করলে বলা হয়, “এটাই তো ধর্ম।”
এই স্বাভাবিক হয়ে যাওয়াটাই মৌলবাদের সাফল্য।
মৌলবাদীরা ভয় দেখায়,
কারণ তারা জানে—
ভয় থাকলে মানুষ নিজেই নিজেকে বন্দি করবে।
তাকে আর শিকল পরাতে হবে না।
সমস্যা মৌলবাদ নয় শুধু।
সমস্যা হলো ভয়কে মেনে নেওয়া।
যে সমাজ ভয়কে প্রশ্ন করে না,
সে সমাজ একদিন নিজের কণ্ঠ হারায়।
প্রশ্নটা তাই বদলাতে হবে—
মৌলবাদীরা কেন ভয় দেখায়?
কারণ আমরা ভয় পেতে শিখেছি।
আর যেদিন মানুষ বলবে,
“ভয় দেখিয়ে আমাকে চালানো যাবে না”,
সেদিনই মৌলবাদ সবচেয়ে দুর্বল হয়ে পড়বে।
কারণ ভয় ছাড়া
মৌল