মৌলবাদীদের ইতিহাস দেখলে একটা ভয়ংকর সত্য চোখে পড়ে—
তারা শুধু ভয় দেখায় না,
অনেক সময় হত্যা করতেও প্রস্তুত থাকে।
প্রশ্ন হলো,
মানুষ কীভাবে এমন জায়গায় যায়,
যেখানে অন্য মানুষকে মারাকে “পুণ্য” মনে হয়?
এর উত্তর লুকিয়ে আছে মৌলবাদের চিন্তার ভেতরে।
প্রথম কারণ, তারা মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখে না।
মৌলবাদী চিন্তায় মানুষ দুই ভাগে ভাগ করা—
এক দল “ঠিক”,
আরেক দল “ভুল”।
যারা “ভুল”,
তারা আর মানুষ থাকে না,
তারা হয়ে যায় “পাপী”, “শত্রু”, “নাস্তিক”, “বিকৃত”।
আর যখন কাউকে মানুষ না বলে শত্রু বলা হয়,
তখন তাকে মারলে আর অপরাধ মনে হয় না।
এটাই হত্যার প্রথম ধাপ—
মানবতাকে মুছে ফেলা।
দ্বিতীয় কারণ, তারা নিজেরা ঈশ্বর সেজে বসে।
মৌলবাদীরা ভাবে—
তারাই সত্যের প্রতিনিধি,
তারাই ঠিক করবে কে বাঁচবে, কে মরবে।
এই মানসিকতা ভয়ংকর।
কারণ তখন আইন নয়,
মানুষ নয়,
বিবেক নয়—
চূড়ান্ত বিচারক হয়ে যায় তারা নিজেরাই।
এইখানেই জন্ম নেয় “ধর্মের নামে খুন”।
তৃতীয় কারণ, তারা ভয় দিয়ে শাসন করতে চায়।
হত্যা শুধু কাউকে সরানোর জন্য না,
হত্যা একটা বার্তা।
বার্তাটা হলো—
“চুপ থাকো, না হলে তোমারও এই পরিণতি।”
এভাবে এক জনকে মারলে
হাজার জন ভয় পায়।
এই ভয়ের রাজনীতিই মৌলবাদীদের সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।
চতুর্থ কারণ, তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে রক্ত চায়।
যখন সমাজে কাজ নেই,
ন্যায় নেই,
সমতা নেই—
তখন প্রশ্ন উঠতে পারে।
এই প্রশ্ন থেকে বাঁচতে
মৌলবাদীরা বলে—
“শত্রু আছে।”
“ওরা ধর্ম নষ্ট করছে।”
“ওরা সমাজ ধ্বংস করছে।”
এই “ওরা”-কেই পরে মারা হয়।
এভাবে মানুষের রাগ
সিস্টেমের দিকে না গিয়ে
কোনো লেখক, ব্লগার, শিক্ষক, ছাত্র বা ভিন্নমতের মানুষের দিকে যায়।
পঞ্চম কারণ, তারা সহিংসতাকে পবিত্র বানায়।
সাধারণ খুন মানে অপরাধ।
কিন্তু মৌলবাদী খুনকে বলে—
“জিহাদ”,
“শাস্তি”,
“দায়িত্ব”।
ভাষা বদলালে কাজ বদলায় না,
কিন্তু বিবেক ঘুমিয়ে পড়ে।
সবচেয়ে ভয়ংকর কথা হলো—
তারা হত্যা করে আদর্শ বাঁচাতে না,
হত্যা করে নিয়ন্ত্রণ বাঁচাতে।
যে কথা বলছে,
যে প্রশ্ন করছে,
যে গান গাচ্ছে,
যে ভিন্নভাবে ভাবছে—
সে তাদের ক্ষমতার জন্য হুমকি।
আর হুমকি মানেই
মুছে ফেলতে হবে।
এটাই তাদের যুক্তি।
ইতিহাস বলে,
মৌলবাদ কখনো গানকে হারাম বলেছে,
কখনো নারীকে বন্দি করেছে,
কখনো লেখককে হত্যা করেছে।
কারণ মৌলবাদ মানুষের স্বাধীনতাকে সহ্য করতে পারে না।
আর স্বাধীন মানুষকে ভয় দেখাতে না পারলে
তাকে মারতে চায়।
মৌলবাদীরা কেন হত্যা করতে চায়?
কারণ তারা জানে—
যুক্তি দিয়ে তারা জিততে পারে না।
তাই তারা রক্ত দিয়ে জয় চায়।
সমস্যা ধর্ম না।
সমস্যা সেই মানসিকতা,
যে মনে করে—
আমি ঠিক,
তাই তুমি মরতে পারো।
আর যেদিন সমাজ বলবে—
“তুমি ঠিক না,
আর তোমার খুনের অধিকার নেই”—
সেদিনই মৌলবাদ সবচেয়ে বড় ধাক্কা খাবে।
কারণ যে আদর্শ হত্যাকে বৈধ করে,
সে আদর্শ শেষ পর্যন্ত
মানুষকেই শেষ করে দেয়।