মৌলবাদীরা নাচ-গানকে হারাম বলে কেন?

Share

 

প্রথম কারণ, নাচ-গান মানে শরীরের স্বাধীনতা।
নাচে শরীর কথা বলে।
গানে মন কথা বলে।
আর মৌলবাদী চিন্তা চায়—শরীর চুপ থাকুক, মন প্রশ্ন না করুক।
যে শরীর নড়ে, যে মন আনন্দ পায়, তাকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।
তাই তারা বলে—এগুলো “হারাম”, “ফাসাদ”, “বিকৃতি”।

দ্বিতীয় কারণ, নাচ-গান মানে আবেগের প্রকাশ।
মৌলবাদ চায় ভয় আর অপরাধবোধের ওপর সমাজ চলুক।
নাচ-গান সেই ভয় ভাঙে।
মানুষ হাসে, ভালোবাসে, মিলিত হয়।
এই মিলনটাই তাদের জন্য বিপজ্জনক।
কারণ আনন্দ পাওয়া মানুষকে হুকুম দেওয়া কঠিন।

তৃতীয় কারণ, নাচ-গান মানে সংস্কৃতি।
বাংলাদেশের গান মানে লালন, ভাটিয়ালি, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল।
এই সংস্কৃতি প্রশ্ন করতে শেখায়, অনুভব করতে শেখায়।
মৌলবাদ চায় একরঙা পরিচয়—
এক পোশাক, এক আচরণ, এক চিন্তা।
নাচ-গান সেই একরঙা দেয়ালে ফাটল ধরায়।

চতুর্থ কারণ, নারীকে নিয়ন্ত্রণের ইচ্ছা।
নাচ আর গানের প্রথম শিকার হয় নারী।
কারণ নাচে নারীর শরীর দৃশ্যমান হয়,
গানে নারীর কণ্ঠ শোনা যায়।
মৌলবাদী মানসিকতা এটা সহ্য করতে পারে না।
তাদের কাছে নারী মানে লুকানো বস্তু,
দৃশ্যমান নারী মানে হুমকি।

পঞ্চম কারণ, সহজ শত্রু দরকার।
যখন বেকারত্ব, দুর্নীতি, সহিংসতা বাড়ে,
তখন বলা হয়—“নাচ-গানেই সমাজ নষ্ট হচ্ছে।”
যেন অর্থনীতি ভেঙেছে ঢোলের তালে,
যেন রাজনীতি ধ্বংস হয়েছে গিটারের সুরে।
এটা দায় চাপানোর সহজ কৌশল।

সবচেয়ে বড় কথা—
মৌলবাদীদের সমস্যা আসলে নাচ-গানে না।
সমস্যা হলো স্বাধীন মানুষে

নাচ-গান বলে—
জীবন শুধু শাস্তি না, আনন্দও।
শরীর পাপ না, অনুভূতি অপরাধ না।
মানুষ শুধু আদেশ মানার যন্ত্র না।

এই কথাগুলোই মৌলবাদীদের ঘুম হারাম করে।

তাই তারা বলে—
“এটা হারাম”,
“এটা বন্ধ করো”,
“এটা নিষিদ্ধ করো”।

কারণ যদি মানুষ নাচে,
গান শোনে,
প্রেম করে,
তাহলে আর সহজে ভয় পাবে না।
আর যে মানুষ ভয় পায় না,
সে আর সহজে নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

সমস্যা নাচ-গান না।
সমস্যা আনন্দ।
সমস্যা স্বাধীনতা।

আর যেখানেই আনন্দ আর স্বাধীনতাকে পাপ বানানো হয়,
সেখানেই মৌলবাদ রাজনীতি করে।