যাদের যুক্তি নেই, তারা লাশ দিয়ে কথা বলে

Share

মৌলবাদীরা যখন কাউকে মারতে চায়, তারা আসলে বলে—
“আমাদের কথাই আইন, আমাদের কথাই ঈশ্বর।”
এই দম্ভটাই খুনের আসল শিকড়।

খুন তাদের কাছে দুর্ঘটনা না।
খুন তাদের কাছে কৌশল।

কারণ মৌলবাদ যুক্তি দিয়ে টিকে থাকতে পারে না।
প্রশ্ন উঠলেই তাদের আদেশ ভেঙে পড়ে।
তাই তারা প্রশ্ন থামায়—ছুরি দিয়ে।
কলমের জবাব দেয় চাপাতি দিয়ে।
মতামতের জবাব দেয় কবর দিয়ে।

প্রথম কাজটা তারা করে ভাষা দিয়ে।
মানুষকে মানুষ না বলে
বলে “নাস্তিক”,
“শত্রু”,
“পাপী”,
“বিকৃত”।

এই শব্দগুলোই হত্যার ট্রেনিং।
কারণ মানুষ মারতে হলে আগে মানুষত্ব মুছতে হয়।

তারপর তারা নিজেকে ঈশ্বরের ডেপুটি বানায়।
কে বাঁচবে, কে মরবে—
এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা
নিজেদের হাতে তুলে নেয়।
আইন? সমাজ? মানবতা?
সব বাতিল।

এটাই মৌলবাদী চিন্তার সবচেয়ে বিপজ্জনক জায়গা—
নিজেকে বিচারক বানানো।

আর খুন তাদের কাছে শুধু প্রতিশোধ না।
খুন হলো বিজ্ঞাপন।
একজন লেখক মরলে
শতজন লেখক চুপ থাকে।
একজন শিক্ষক মরলে
হাজারজন শিক্ষক সাবধান হয়।

এটাই আতঙ্কের রাজনীতি।
রক্ত দিয়ে নিয়ম লেখা।

যখন রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়,
যখন চাকরি থাকে না,
যখন ন্যায্যতা থাকে না—
মৌলবাদীরা বলে,
“দোষ ওদের।”

ওরা মানে—
ভিন্নমত,
ভিন্ন জীবন,
ভিন্ন ভালোবাসা।

এই “ওরা”-দের মারলেই
জনতার রাগ সিস্টেমের দিকে না গিয়ে
মানুষের দিকেই যায়।

সবচেয়ে নোংরা চালটা হলো—
খুনকে পবিত্র বানানো।

খুনের নাম দেওয়া হয়—
“শাস্তি”,
“দায়িত্ব”,
“ইবাদত”,
“সওয়াব”।

শব্দ বদলালে
রক্তের গন্ধ কমে,
বিবেক ঘুমিয়ে পড়ে।

কিন্তু বাস্তবতা খুব সোজা—
মৌলবাদীরা খুন করে ধর্ম বাঁচাতে না।
খুন করে নিজের ক্ষমতা বাঁচাতে।

যে মানুষ নিজের মতো করে বাঁচে,
সে নিয়ন্ত্রণ মানে না।
আর যে নিয়ন্ত্রণ মানে না,
সে মৌলবাদীর চোখে অপরাধী।

এই জন্যই ইতিহাসে দেখা যায়—
কখনো বই পোড়ানো,
কখনো নারী বন্দি করা,
কখনো লেখক হত্যা।

রূপ বদলায়,
কিন্তু প্যাটার্ন এক—
আগে ভয়,
তারপর লাশ।

মৌলবাদীরা কেন হত্যা করতে চায়?

কারণ ভয় ছাড়া তাদের অস্তিত্ব নেই।
আর ভয় টিকিয়ে রাখতে
মাঝে মাঝে লাশ দরকার।

এই কথাটা শুনতে কঠিন,
কিন্তু সত্য।

আর সবচেয়ে ভয়ংকর কী জানো?
যখন সমাজ বলে—
“ঝামেলা কোরো না”,
“সংবেদনশীল বিষয়”,
“থাক, চুপ থাকাই ভালো”—

এই নীরবতাই
খুনের লাইসেন্স হয়ে যায়।

খুন একদিনে হয় না।
খুন আসে
চুপ থাকার রাস্তা ধরে।

ধর্ম মানুষকে ভালো বানানোর কথা বলে।
কিন্তু যে ধর্মের নামে মানুষ মারা হয়,
সেখানে ধর্ম নেই,
আছে ক্ষমতার লোভ।

রক্ত দিয়ে কোনো বিশ্বাস বাঁচানো যায় না।
রক্ত দিয়ে শুধু ভয় বানানো যায়।

আর যে বিশ্বাস ভয় বানায়,
সে বিশ্বাস একদিন
পুরো সমাজকেই জিম্মি করে।

তাই প্রশ্নটা বদলাতে হবে—

মৌলবাদীরা কেন হত্যা করতে চায়?
কারণ আমরা অনেক সময়
তাদের থামাতে চাই না।

আর যেদিন সমাজ বলবে—
“তোমার আদর্শ দিয়ে মানুষ মারার অধিকার নেই”,
“তোমার ধর্ম দিয়ে খুন জায়েজ না”—

সেদিনই মৌলবাদ সবচেয়ে দুর্বল হবে।

কারণ মৌলবাদ
যুক্তিতে জেতে না।
সে জেতে
রক্তে।