শিক্ষার্থী কি মানুষ না? নাচ–গান নিষিদ্ধ করার এই সাহস তারা পায় কোথা থেকে?

Share

 

একজন শিক্ষার্থী কি শুধু বই বহন করার যন্ত্র?
সে কি হাসবে না, গাইবে না, নাচবে না, মঞ্চে উঠবে না?

মৌলবাদীরা বলে—পারবে না।
কারণ তাদের চোখে শিক্ষার্থী মানে ভবিষ্যৎ নাগরিক না,
ভবিষ্যৎ অনুগত সৈনিক।

নাচ–গান তাদের সমস্যা কেন?
কারণ নাচ–গান মানে স্বাধীন শরীর।
গান মানে মুক্ত কণ্ঠ।
আর মৌলবাদী রাজনীতির সবচেয়ে বড় শত্রু হলো—মুক্ত শরীর আর মুক্ত কণ্ঠ।

যে শিক্ষার্থী গান গায়, সে ভয় দিয়ে চালানো যায় না।
যে শিক্ষার্থী নাচে, সে মাথা নিচু করে হাঁটে না।
আর যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে কথা বলে,
সে একদিন প্রশ্নও করবে—কে ঠিক করছে আমার জীবন?

এই প্রশ্নটাই মৌলবাদীরা সহ্য করতে পারে না।

তাদের আদর্শ শিক্ষার্থী কেমন?
চুপ থাকবে।
একইভাবে পোশাক পরবে।
একইভাবে ভাববে।
ভিন্ন কিছু চাইবে না।

কারণ বৈচিত্র্য মানে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়া।
আর নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলেই তাদের ক্ষমতা শেষ।

সবচেয়ে কুৎসিত আঘাত পড়ে মেয়েদের ওপর।
একজন ছাত্রী নাচলে বলা হয়—“চরিত্র যাবে।”
একজন ছাত্রী গান করলে বলা হয়—“অশ্লীল।”
কারণ তাদের চোখে মেয়ের শরীর দৃশ্যমান হওয়াটাই অপরাধ।
মেয়েরা যত লুকানো থাকবে, তত তারা “ভালো”।

এটা শিক্ষা রক্ষা না।
এটা পুরুষতান্ত্রিক পাহারা।

আরেকটা চাল আছে—
যখন স্কুলে মানসম্মত পড়াশোনা নেই,
যখন তরুণদের চাকরি নেই,
যখন সমাজে সহিংসতা বাড়ে—
তখন বলা হয়, “নাচ–গানেই সব নষ্ট হয়েছে।”

যেন অর্থনীতি ভেঙেছে তবলার তালে।
যেন শিক্ষাব্যবস্থা ডুবে গেছে গিটারের সুরে।

এটা দায় চাপানোর রাজনীতি।
নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে শিক্ষার্থীদের আনন্দকে শত্রু বানানো।

শিক্ষা মানে কেবল মুখস্থ না।
শিক্ষা মানে ভাবতে শেখা।
অনুভব করতে শেখা।
নিজেকে প্রকাশ করতে শেখা।

যে সমাজ শিক্ষার্থীদের নাচ–গান বন্ধ করে,
সে সমাজ আসলে ভবিষ্যৎকে বোবা বানাতে চায়।

মৌলবাদীরা বাধা দেয় কেন?
কারণ তারা চায় ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হোক
নীরব,
ভীত,
একই ছাঁচে ঢালা।

কিন্তু শিক্ষার্থী যদি গান গায়,
নাচে,
নাটক করে,
তাহলে সে আর শুধু আজকের না—আগামী দিনের নাগরিক হয়।

আর নাগরিক মানে প্রশ্নকারী মানুষ।
আর প্রশ্নকারী মানুষ মানে
মৌলবাদী ক্ষমতার কবর।

প্রশ্নটা তাই বদলাতে হবে—

একজন শিক্ষার্থী কি নাচ–গান করতে পারবে না?
না।

প্রশ্নটা হলো—
কারা ঠিক করে দেবে,
শিক্ষার্থীরা মানুষ হয়ে বড় হবে,
নাকি ভয় আর নিষেধাজ্ঞার ভেতরে বড় হবে?

মৌলবাদীরা নাচ–গানে বাধা দেয়,
কারণ তারা ভয় পায় এমন প্রজন্মকে—
যারা গান জানে,
নাচ জানে,
আর সবচেয়ে ভয়ংকর কথা—
নিজের মতো করে বাঁচতে জানে।