কারণ সমকামিতা তাদের ক্ষমতার কাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করে।
মৌলবাদী চিন্তার ভিত্তি হলো—
একটাই সঠিক জীবনপথ আছে,
একটাই সঠিক পরিবার আছে,
একটাই সঠিক লিঙ্গভূমিকা আছে।
পুরুষ মানে শাসক,
নারী মানে নিয়ন্ত্রিত,
আর যৌনতা মানে শুধু বংশবিস্তার।
সমকামিতা এই পুরো ছকটাই ভেঙে দেয়।
এটা বলে—ভালোবাসা মানে শুধু ছেলে-মেয়ের মধ্যে না।
এটা বলে—মানুষের শরীরের ওপর ধর্ম বা সমাজের মালিকানা নেই।
এই কথাগুলো মৌলবাদীদের কাছে ভয়ংকর।
কারণ যদি মানুষ নিজের শরীর আর ভালোবাসা নিজে ঠিক করতে পারে,
তাহলে তাদের হুকুম চলবে কীভাবে?
দ্বিতীয় কারণ, নারী ও যৌনতার ওপর নিয়ন্ত্রণ।
মৌলবাদ সবসময় নারীর পোশাক, চলাফেরা, পড়াশোনা, প্রেম—সব কিছুর ওপর নজরদারি চায়।
সমকামিতা মানে সেই নজরদারির বাইরে চলে যাওয়া।
এতে পুরুষতান্ত্রিক কর্তৃত্ব দুর্বল হয়।
আর ক্ষমতা দুর্বল হলে মৌলবাদ টিকে থাকতে পারে না।
তৃতীয় কারণ, সহজ শত্রু দরকার।
যখন বেকারত্ব, দুর্নীতি, বৈষম্য, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতা বেড়ে যায়,
তখন মৌলবাদীরা বলে—
“সমস্যা ওরা।”
“সমাজ নষ্ট করছে ওরা।”
“সংস্কৃতি ধ্বংস করছে ওরা।”
এটা খুব পুরোনো কৌশল।
সমস্যার কারণ না দেখিয়ে,
একটা দুর্বল গোষ্ঠীকে দোষী বানাও।
সমকামীরা সংখ্যালঘু, দৃশ্যমান, আর ভয় পায়—
তাই টার্গেট করা সহজ।
চতুর্থ কারণ, ধর্মের রাজনীতি।
অনেক মৌলবাদীর কাছে ধর্ম বিশ্বাস নয়, ভোট আর নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার।
সমকামিতার বিরুদ্ধে চিৎকার করলে তারা সহজে সমর্থন পায়।
কারণ যৌনতা নিয়ে সমাজ আগেই অস্বস্তিতে থাকে।
এই অস্বস্তিকে তারা আগুন বানায়।
আরেকটা বড় কারণ, ভিন্নতা তাদের সহ্য হয় না।
মৌলবাদ চায় একরঙা সমাজ।
এক ভাষা, এক পোশাক, এক চিন্তা, এক ভালোবাসা।
সমকামিতা বলে—মানুষ একরকম না।
এই কথাটা তাদের আদর্শের শত্রু।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো—
মৌলবাদীদের মাথাব্যথা আসলে সমকামিতা নিয়ে না।
মাথাব্যথা হলো নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় নিয়ে।
তারা ভয় পায়—
যদি মানুষ বুঝে ফেলে ভালোবাসা অপরাধ না,
যদি মানুষ বুঝে ফেলে শরীর তার নিজের,
তাহলে আর হুকুম মানবে না।
তাই তারা বলে—
“এটা পাপ”,
“এটা বিকৃতি”,
“এটা পশ্চিমা ষড়যন্ত্র।”
কারণ “আমি তোমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাই” বললে কেউ শুনবে না।
কিন্তু “ঈশ্বর বলেছে” বললে মানুষ চুপ করে।
সমস্যা সমকামিতা না।
সমস্যা হলো—একদল মানুষ এখনো চায়,
কে কাকে ভালোবাসবে, সেটাও তারা ঠিক করে দেবে।
আর যেখানেই কেউ অন্যের ভালোবাসা নিয়ন্ত্রণ করতে চায়,
সেখানেই মৌলবাদ জন্ম নেয়।