৮ মে ২০২৩।
উগ্র মৌলবাদীদের হামলায় আমি গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি।
শরীরে ক্ষত, মাথায় ব্যান্ডেজ, জীবন বাঁচানোর লড়াই চলছে।
আর ঠিক তার পরদিন—
৯ মে ২০২৩।
আমার স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাকে বহিষ্কার করে।
আমি তখন অফিসে না।
আমি তখন ক্লাসে না।
আমি তখন প্রতিবাদে রাস্তায় না।
আমি তখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে।
স্কুল কর্তৃপক্ষ জানত আমি আহত।
জানত আমি হাসপাতালে।
তবু তারা সিদ্ধান্ত নেয়—
আমাকে চাকরি থেকে বাদ দিতে হবে।
এটা কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত না।
এটা কাপুরুষতা।
আমার পরিবার ইচ্ছা করেই আমাকে এই খবর দেয়নি।
কারণ তারা জানত—
এই খবর শুনলে
আমার শরীরের চেয়ে মন বেশি ভেঙে পড়বে।
আমি যখন কিছুটা সুস্থ হই,
তখন জানতে পারি—
আমি আর শিক্ষক নই।
আমি আর কর্মচারী নই।
আমি আর প্রতিষ্ঠানের অংশ নই।
আমি বহিষ্কৃত।
কেন?
আমি চুরি করিনি।
আমি দুর্নীতি করিনি।
আমি ছাত্রদের ওপর নির্যাতন করিনি।
আমি শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখেছিলাম।
আমি শুধু বলেছিলাম—
সমকামী শিক্ষার্থীরা অপরাধী না।
তাদের মারধর করা অন্যায়।
এই কথার শাস্তি—
হামলা।
হাসপাতাল।
আর শেষে চাকরিচ্যুতি।
এটাই কি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ন্যায়বিচার?
এটাই কি শিক্ষকতার মর্যাদা?
এটাই কি নৈতিকতা?
একজন শিক্ষক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে,
আর তার প্রতিষ্ঠান বলে—
“ওকে বাদ দাও, ঝামেলা বাড়ছে।”
এটা সিদ্ধান্ত না।
এটা আত্মসমর্পণ।
মৌলবাদীরা চাপ দিল।
স্কুল মাথা নোয়াল।
আর সেই নোয়ানোর মূল্য দিলাম আমি।
এই বহিষ্কার শুধু আমার বিরুদ্ধে না।
এটা বার্তা—
“চুপ থাকো।”
“লিখো না।”
“প্রতিবাদ কোরো না।”
কারণ যদি তুমি কথা বলো,
তাহলে প্রথমে হুমকি আসবে।
তারপর হামলা আসবে।
তারপর চাকরি যাবে।
এই ব্যবস্থায়
অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলাই
সবচেয়ে বড় অপরাধ।
আমি ভেঙে পড়েছিলাম।
শুধু অর্থনৈতিক কারণে না।
নৈতিকভাবে।
কারণ আমি ভেবেছিলাম—
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অন্তত ন্যায় বুঝবে।
কিন্তু তারা বুঝেছে শুধু ভয়।
এই স্কুল আমাকে বহিষ্কার করে দেখিয়েছে—
তারা ছাত্রদের শিক্ষা দেয়,
কিন্তু নিজেরা সাহস শিখেনি।
তারা বলে নৈতিকতা শেখায়,
কিন্তু অন্যায়ের সময়
নিজেরা নিরপেক্ষ থাকে না,
নিজেরা অন্যায়ের পাশে দাঁড়ায়।
আমি এই বহিষ্কারকে মানি না।
আমি এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলি।
আমি বলি—
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা মানুষকে
বহিষ্কার করা
শিক্ষা না,
এটা নিষ্ঠুরতা।
আজ আমার চাকরি নেই।
কিন্তু আমার প্রশ্ন আছে—
যে প্রতিষ্ঠান অন্যায়ের সময়
নিজের শিক্ষককে রক্ষা করে না,
সে প্রতিষ্ঠান কাকে শিক্ষা দেবে?
এই বহিষ্কার শুধু আমার গল্প না।
এটা প্রমাণ—
এই দেশে
ভয় নীতি তৈরি করে,
আর ন্যায়কে সরিয়ে দেয়।
আমি প্রতিবাদ করি।
আমি এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াই।
আমি বলি—
আমাকে চাকরি থেকে বাদ দিতে পারো,
কিন্তু সত্য থেকে সরাতে পারবে না।