নাচ–গানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি আক্রমণ যায় নারীর দিকে। নারী নাচলে সমস্যা, নারী গাইলে সমস্যা, নারী মঞ্চে দাঁড়ালেই সমস্যা। কারণ মৌলবাদী মানসিকতায় নারী মানে লুকিয়ে রাখা বস্তু। যে বস্তু প্রকাশ্যে যাবে না, কণ্ঠ তুলবে না, শরীর দেখাবে না।
নারী যখন নাচে, তখন সে বলে—এই শরীর আমার। এই ঘোষণাই তাদের আতঙ্ক। কারণ এতে তাদের নিয়ন্ত্রণ ভাঙে। নারী যখন গায়, তখন সে নিজের কণ্ঠকে জনসমক্ষে নিয়ে আসে। এটাও নিয়ন্ত্রণ ভাঙে। তাই তারা বলে—এটা “অশ্লীল”, “সংস্কৃতি নষ্ট”, “ধর্মবিরোধী”।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—সংস্কৃতি কার? নারীর শরীর কি কোনো দলের সম্পত্তি? নারীর কণ্ঠ কি কোনো ফতোয়ার অধীন? মৌলবাদীরা নারীর শরীরকে যুদ্ধক্ষেত্র বানায়। নাচ–গানকে অজুহাত করে তারা বলে—ঘরে ফেরো, চুপ করো, লুকিয়ে থাকো।
এটা নৈতিকতা না। এটা আধিপত্য। এটা সেই রাজনীতি, যেখানে নারীর আনন্দ অপরাধ আর পুরুষের নিয়ন্ত্রণ ধর্ম হয়ে যায়। নাচ–গানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ মানে আসলে নারীর স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ।