আমি একজন শিক্ষক। আমি লিখেছি—সমকামী ছাত্রও মানুষ, তারও নিরাপত্তা দরকার, তারও সম্মান দরকার। এই লেখাটাই কি আমার অপরাধ?
এই প্রশ্নটা আজ খুব বাস্তব। কারণ এখন লেখা মানে শুধু মত প্রকাশ না, লেখা মানে সাহস।
শিক্ষকের কাজ কী? শুধু পাঠ্যবই শেষ করা? নাকি ছাত্রকে মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা?
যদি দ্বিতীয়টা সত্য হয়, তাহলে একজন শিক্ষক যখন লেখেন—
“সমকামী শিক্ষার্থীকে মারধর করা যাবে না”,
“তার পরিচয়ের জন্য তাকে হেয় করা যাবে না”—
সেটা অপরাধ হয় কীভাবে?
মৌলবাদীরা লেখাকে ভয় পায় কেন?
কারণ লেখা ভাবনা তৈরি করে।
ভাবনা প্রশ্ন তোলে।
প্রশ্ন নিয়ন্ত্রণ ভাঙে।
মৌলবাদী মানসিকতা চায়—
একটাই ব্যাখ্যা চলুক,
একটাই জীবনধারা চলুক,
একটাই চিন্তা চলুক।
কিন্তু লেখা বলে—
আরেক রকম মানুষও আছে,
আরেক রকম জীবনও আছে,
আরেক রকম ব্যথাও আছে।
এই কথাগুলোই তাদের অস্বস্তিতে ফেলে।
আমি যদি লিখি—
“সমকামী ছাত্র মানুষ”—
তাতে যদি কারও বিশ্বাস নড়ে যায়,
তাহলে সমস্যা লেখায় না,
সমস্যা সেই বিশ্বাসে।
শিক্ষক হয়ে লেখা মানে ভবিষ্যতের সঙ্গে কথা বলা।
আর মৌলবাদীরা ভবিষ্যৎকে প্রশ্ন করতে দিতে চায় না।